“প্রশাসক নাকি সাবেক মুখ? রাজশাহীতে শেষ হাসি কি বুলবুলের!”
প্রকাশঃ
সামনের সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে কৌশলগত অবস্থান বদলাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি এবার প্রশাসকদের পারফরম্যান্সকে কেন্দ্র করে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের পরিকল্পনা নিলেও, কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিটিতে অভিজ্ঞ সাবেক মেয়রদেরই আবার সামনে আনার চিন্তা করছে। আর এই হিসাব-নিকাশে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এখন বিশেষভাবে আলোচনায়।
দলীয় সূত্র জানায়, সরকার যেসব সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে—সেসব জায়গায় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগেভাগেই ভোটারদের কাছে পরিচিত করার কৌশল নিয়েছে বিএনপি। প্রশাসক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তারা জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করতে পারছেন, যা প্রাথমিকভাবে নির্বাচনী মাঠ তৈরিরই অংশ হিসেবে দেখছে দলটি। যারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারবেন, তাদেরই চূড়ান্তভাবে মেয়র প্রার্থী করার সম্ভাবনা বেশি।
তবে এই কৌশলের মাঝেও ব্যতিক্রম হিসেবে উঠে আসছে রাজশাহী ও রংপুরের মতো কিছু সিটি করপোরেশন। এখানে প্রশাসকদের চেয়ে সাবেক মেয়রদের অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত ইমেজ এবং রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে রাজশাহীতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।
স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা বুলবুলের রয়েছে শক্ত পরিচিতি। দলীয় নীতিনির্ধারকদের একাংশ মনে করছেন, প্রতীকবিহীন নির্বাচনে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠবে। সেই জায়গায় বুলবুল এখনো একটি শক্তিশালী নাম, যিনি মাঠপর্যায়ে কর্মী-সমর্থকদের কাছেও গ্রহণযোগ্য।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সিটি নির্বাচন অতীতের ধারা অনুসারেই অনুষ্ঠিত হবে, তবে প্রশাসকদের ভূমিকা নিয়ে এখনো দলীয় ফোরামে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। এতে বোঝা যাচ্ছে, প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি এখনো খোলা রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নানা দিক বিবেচনা করছে দল।
২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ খুলনা, সিলেট, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে এবং ১৪ মার্চ বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লায় প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। রাজশাহীতে মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহফুজুর রহমান প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন। তবুও এই সিটিতে প্রশাসক নয়, বরং সাবেক মেয়রের দিকে ঝুঁকতে পারে বিএনপি—এমন আভাসই মিলছে বিভিন্ন সূত্রে।
দলটি ইতোমধ্যে প্রতিটি সিটিতে একক প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যাতে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি কমে এবং ভোটব্যাংক অক্ষুণ্ণ থাকে। তবে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, প্রশাসকদের দিয়ে মাঠ প্রস্তুত করলেও শেষ মুহূর্তে অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় মুখদেরই ভরসা করতে পারে বিএনপি। আর সেই বাস্তবতায় রাজশাহীতে আবারও “বুলবুল ফ্যাক্টর” সামনে চলে এসেছে। এখন দেখার বিষয়—প্রশাসনিক কৌশল ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত কি আবারও সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল-এর হাতেই তুলে দেওয়া হয় বিএনপির মেয়র প্রার্থিতার পতাকা?
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন