Iklan

{getBlock} $results={3} $label={রাজনীতি} $type={headermagazine}

অকেজো ঢোপকলকে নতুনভাবে তুলে ধরলো রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন

প্রকাশঃ
অ+ অ-

ঐতিহ্য ও ইতিহাসের শহর রাজশাহীতে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্যবাহী ঢোপকল। একসময় নগরবাসীর সুপেয় পানির অন্যতম উৎস ছিল এই ঢোপকলগুলো। সময়ের ব্যবধানে অধিকাংশই অকেজো ও বিলুপ্তপ্রায় হয়ে পড়লেও এবার সেগুলো পুনরায় তুলে এনে ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন।
১৯৩৭ সালে নির্মিত ‘হেমন্তকুমারী ওয়াটার ওয়ার্কস’ প্রকল্পের আওতায় এসব ঢোপকল স্থাপন করা হয়েছিল। তৎকালীন রাজশাহী পৌরসভার চেয়ারম্যান রায় ডি এন দাশগুপ্তের উদ্যোগে এবং পুঠিয়া রাজপরিবারের মহারাণী হেমন্তকুমারী দেবীর অনুদানে গড়ে ওঠে এই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। প্রতিটি ঢোপকল প্রায় ১২ ফুট উঁচু ও ৪ ফুট চওড়া ছিল এবং এর ভেতরে বালি, পাথর ও টিনের ঢেউখেলানো নকশার মাধ্যমে প্রাকৃতিক পানি পরিশোধনের বিশেষ ব্যবস্থা ছিল।
আধুনিক পানির লাইনের যুগে এসব ঢোপকলের ব্যবহার কমতে কমতে একসময় অধিকাংশই অকেজো হয়ে পড়ে। অনেকগুলো হারিয়ে গেছে, আবার কিছু এখনো বিভিন্ন এলাকায় অবহেলিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।
রাজশাহীর পুরোনো ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এবার সেই অকেজো ঢোপকলগুলোই আবার সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৫ মে) রাতে নগরীর দড়িখরবোনা মোড়ে একটি পুরোনো ঢোপকল পুনরায় দৃশ্যমান করে সংরক্ষণমূলক কাজ করা হয়।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে রাজশাহীর অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। কেউ কেউ বলেন, ছোটবেলায় তারা এসব ঢোপকলের পানি পান করেছেন। এখন আবার সেগুলো চোখের সামনে দেখতে পেয়ে পুরোনো স্মৃতি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, শুধু উন্নয়ন নয়, শহরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন জানান, “রাজশাহীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ। শুধু উন্নয়ন নয়, ইতিহাস সংরক্ষণও আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, পুরোনো এসব ঢোপকল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জীবন্ত ইতিহাস হিসেবে কাজ করবে।
আরেকজন স্থানীয় শিক্ষক বলেন, “শহরের ইতিহাসকে এভাবে সংরক্ষণ করা খুবই ভালো উদ্যোগ। শিক্ষার্থীরা বাস্তবে দেখেই ইতিহাস শিখতে পারবে।”
সচেতন মহলের মতে, শুধু সৌন্দর্যবর্ধন নয়, এই উদ্যোগ রাজশাহীর হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে অনেকে মনে করেন, শুধু প্রদর্শনী নয়, এসব ঢোপকলের প্রযুক্তিগত ইতিহাস ও কাজের পদ্ধতিও সংরক্ষণ করা উচিত।

একটি মন্তব্য করুন

Rashtro Barta
Rashtro Barta
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন