দুর্গোৎসবের আনন্দে এবার তারেক-উচ্ছ্বাস, উৎসবের নগরী রাজশাহী
![]() |
| রাত পোহালেই আসছেন প্রধানমন্ত্রী, মাদ্রাসা মাঠে জনসভা ঘিরে উচ্ছ্বাস; রং-তুলিতে নতুন সাজে নগরী, ইক্ষুচাষিদের দেওয়া হবে প্রণোদনা |
দুর্গাপূজার আনন্দ সনাতনীদের, কিন্তু উৎসবের আবহ যেন এবার ছুঁয়ে গেছে গোটা রাজশাহীকে। রাত পোহালেই পদ্মাপাড়ের এই নগরীতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁকে বরণ করে নিতে কোথাও রং-তুলির আঁচড়ে বদলে যাচ্ছে সড়কের চেহারা, কোথাও পরিচ্ছন্ন হচ্ছে ফুটপাত, আবার কোথাও চলছে জনসভার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ, রাজনৈতিক উচ্ছ্বাস আর নগরীকে নতুন করে সাজানোর ব্যস্ততা—সব মিলিয়ে রাজশাহীতে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক আবহ।
শারদীয় দুর্গোৎসবের এই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমন নগরীর উৎসবের আয়োজনে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজার আনন্দের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ঈদ-ঈদ আমেজ। সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে আগ্রহ। কারও চোখে প্রধানমন্ত্রীর আগমন, কারও আলোচনায় মাদ্রাসা মাঠের জনসভা, আবার কারও নজর নগরীর নতুন সাজে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর ঘিরে নগরজুড়ে চলছে নানা আয়োজন। সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১টায় রাজশাহী ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি ইক্ষুচাষিদের মধ্যে প্রণোদনা বিতরণের কর্মসূচিও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাজশাহীর বিভিন্ন সড়ক ও স্থাপনায় চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। কোথাও সড়ক বিভাজকে নতুন রং, কোথাও ফুটপাত পরিষ্কার, কোথাও আবার সড়কসংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ। অতিথিকে বরণে নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।
নগরীর এমন পরিবর্তন দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে আলোচনা। কেউ সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন, কেউ আবার রসিকতা করে লিখছেন, ‘তারেক রহমান যেন প্রতি মাসে একবার করে রাজশাহী আসেন।’ এই মন্তব্যের আড়ালেও রয়েছে নাগরিক প্রত্যাশা। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে যদি সড়ক, ফুটপাত ও নগরীর বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে সারা বছরই কেন এমন পরিবেশ বজায় থাকবে না—এমন প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, সফর শেষ হলেও পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের এই উদ্যোগ যেন থেমে না যায়। বরং তা নিয়মিত নাগরিক সেবার অংশ হয়ে উঠুক।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বাড়তি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভাকে ঘিরে চলছে প্রস্তুতি। মঞ্চ নির্মাণ, মাঠ গোছানো এবং আশপাশের পরিবেশ প্রস্তুত করার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উদ্দীপনা। প্রিয় নেতাকে সামনে থেকে দেখা, তাঁর বক্তব্য শোনা এবং জনসভায় অংশ নেওয়ার প্রত্যাশায় অনেকেই উচ্ছ্বসিত। তাঁদের কাছে এই সফর রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি বিশেষ একটি উপলক্ষ। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সফর, নগরীর উন্নয়ন এবং রাজশাহীকে ঘিরে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। তবে উৎসবের আনন্দ, শুভেচ্ছা ও সৌহার্দ্য কোনো একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। রাজশাহীর হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্প্রীতির আবহে প্রধানমন্ত্রীর সফর যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা আরও জোরালো হবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।
এবারের সফরে ইক্ষুচাষিদের জন্য প্রণোদনা বিতরণের কর্মসূচিও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি ও আখচাষের সঙ্গে জড়িত মানুষের কাছে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রণোদনার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য নিশ্চিত না হওয়ায় তা উল্লেখ করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর ঘিরে নগরজুড়ে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে আরও স্পষ্ট হবে। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ, রাজনৈতিক উচ্ছ্বাস, কৃষকদের জন্য প্রণোদনা এবং নাগরিক প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে রাজশিয়া এখন অপেক্ষায়।
রাত পোহালেই নতুন সকাল। পূজামণ্ডপে থাকবে উৎসবের রং, মাদ্রাসা মাঠে জনসভার আয়োজন, আর নগরীর পথে পথে থাকবে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করার প্রস্তুতি। উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে, আর প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সাজানো রাজশাহী যেন শুধু এক দিনের জন্য নয়, সারা বছরই পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর থাকে—নগরবাসীর প্রত্যাশা এখন সেটিই।
